টানা একটি শিরোপাহীন মৌসুম কাটানোর পর কিলিয়ান এমবাপ্পের ওপর রিয়াল মাদ্রিদ সমর্থকদের ক্ষোভ এখন তুঙ্গে। এই ফরাসি ফরোয়ার্ডের পারফরম্যান্স ও দায়বদ্ধতা নিয়ে যখন চারদিকে সমালোচনা, তখন তাতে নতুন মাত্রা যোগ করলেন রিয়ালের সাবেক তারকা ওয়েসলি স্নাইডার। 'হার্ড রক বেট'-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এমবাপ্পের মনোভাব নিয়ে কড়া প্রশ্ন তুলেছেন।
স্নাইডার সরাসরি বলেন:
“দলের কঠিন সময়ে পাশে না থেকে ছুটিতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই মানা যায় না। বিশেষ করে যখন এল ক্লাসিকো জিতে বার্সেলোনার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে, তখন এমবাপ্পের এমন আচরণ সমর্থকদের মনে আঘাত দিয়েছে। তার উচিত ছিল এখন দলের সাথে থাকা।”
মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি এমবাপ্পের মাঠের বাইরের কর্মকাণ্ডও বিতর্কের জন্ম দিচ্ছে। রিয়াল মাদ্রিদকে হারিয়ে যখন চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীরা ট্রফি উল্লাস করছে, ঠিক তার পরদিনই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমবাপ্পের হাস্যোজ্জ্বল ছবি পোস্ট করাটা ভালো চোখে দেখছেন না ফুটবল বোদ্ধারা।
রিয়ালের পরবর্তী কোচ হিসেবে স্নাইডারের পছন্দ মরিনহো
বর্তমানে আলভারো আরবেলোয়া কোচের দায়িত্বে থাকলেও গুঞ্জন রয়েছে তার সময় ফুরিয়ে এসেছে। স্নাইডারের মতে, রিয়ালের এই অস্থির অবস্থা সামাল দিতে অভিজ্ঞ জোসে মরিনহোই হতে পারেন সেরা সমাধান।
স্নাইডার তার অধীনে ইন্টার মিলানে ঐতিহাসিক 'ট্রেবল' জেতার স্মৃতি স্মরণ করে বলেন, রিয়ালের মতো বড় ক্লাব চালাতে গেলে যে ব্যক্তিত্ব প্রয়োজন, তা মরিনহোর মধ্যে শতভাগ আছে।
স্নাইডার বলেন:
“রিয়াল মাদ্রিদের এমন একজন কোচ দরকার যিনি বড় বড় তারকাদের ইগো বা ব্যক্তিত্ব সামলাতে জানেন। মরিনহো এই কাজের জন্য একদম উপযুক্ত।”
স্কোয়াড ম্যানেজমেন্টে মরিনহোর মুন্সিয়ানা
স্নাইডারের মতে, মরিনহোর বড় গুণ হলো কেবল প্রথম একাদশ নয়, বরং রিজার্ভ বেঞ্চের খেলোয়াড়দেরও মানসিকভাবে চনমনে রাখা।
তিনি যোগ করেন:
“শুরুর ১১ জন খেলোয়াড়কে তো যেকোনো সাধারণ কোচও সামলাতে পারেন। কিন্তু আসল চ্যালেঞ্জ হলো বেঞ্চের খেলোয়াড়দের প্রস্তুত রাখা। মরিনহো জানেন প্রতিটি খেলোয়াড়কে কীভাবে গুরুত্বপূর্ণ অনুভব করাতে হয়।”

